ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


রঙে রঙে বসন্তের সাজ

দেখতে দেখতে আরেকটি বসন্ত চলে এলো দোড়গোরায়। কদিন পরেই প্রকৃতিতে শুরু হবে ফাল্গুনের রঙের ছড়াছড়ি, তাই সাজপোশাকেও থাকুক না একটু ভিন্নতা। সবাই হয়তো বসন্ত বরণের দিনটির জন্য নানা পরিকল্পনা করছেন। কেমন শাড়ি পরবেন, কেমন করে সাজবেন আরো কতো কি। তবে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার আপনার ফাল্গুনী সাজে আনতে পারেন একটু ভিন্ন মাত্রা। আরো জানতে বিস্তারিত পড়ুন।

বসন্তের শাড়ি

শাড়িটা একরঙা, পাড়ে বর্ণিলতা। শাড়িটা যেহেতু এক রঙের, তাই ব্লাউজটা যেন বেশ বাহারি হয়। এই যেমন, হালকা হলুদ জমিন ও কমলা পাড়ের শাড়ির সঙ্গে লাল ব্লাউজ মানানসই। কমলা রঙের ব্লাউজ পরতে পারেন হালকা সবুজ জমিন হলুদ পাড়ের শাড়ির সঙ্গে। কম বয়সী মেয়েরা ব্লাউজের গলাটা বড় পরতে পারেন। স্লিভলেস ব্লাউজ পরলে শাড়িটা এক প্যাঁচে না পরাই ভালো।

অল্টারনেট করে, পেছনে কয়েক রঙের ফিতা দেওয়া স্লিভলেস ব্লাউজও পরা যেতে পারে। পয়লা ফাগুনে ঘটি হাতা, খাটো হাতার ব্লাউজের আবেদন তো আছেই। ব্লাউজে ছোট ঘণ্টা, কলকা ব্যবহার করা যেতে পারে। শাড়ির সঙ্গে কনট্রাস্ট করে ব্লাউজের রংটা বেছে নিন। স্লিভলেস ব্লাউজ পরলে শুধু তাজা ফুলের বাজুবন্ধ পরতে পারেন। গলায় বা হাতে যেকোনো একটি গয়না পরুন। এ ছাড়া মেটাল, কড়ির গয়না পরতে পারেন।

ফাল্গুনের সাজ

ব্লাউজে বিশেষত্ব নিয়ে আসতে ঘটি হাতার ব্লাউজ বা থ্রি কোয়ার্টার হাতা আবার গলায় কুচি দিয়ে তৈরি করতে পারেন। rupcare_spring fashion2শাড়ি পরার ক্ষেত্রে এক প্যাঁচেতেই বেশ মানাবে পহেলা ফাল্গুনে। ফাল্গুনেও শীতের হালকা আমেজ থেকে যায়। তাই মেকআপ খুব গাঢ় না করে হালকা করে সেজে নেওয়ার পরামর্শ দেন রিমা জুলফিকার। কারণ দিনের রোদে মেকআপ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। মেকআপ নেওয়ার আগে মুখমণ্ডলটাকে মেকআপ উপযোগী করে তুলতে ভালোভাবে ক্লিনজিং করে নিন। এবার ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পানি মিশিয়ে মুখমণ্ডলে লাগিয়ে নিন। ফাউন্ডেশন মসৃণভাবে ত্বকে মিশিয়ে নিন। তারপর হালকা ফেসপাউডার বুলিয়ে নিন। ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে শেড নির্বাচন করুন। এবার চোখদুটোকে সাজিয়ে নিন একটু গাঢ় করে মাসকারা, আইলাইনার, কাজল আর হালকা আইশ্যাডো দিয়ে। অবশেষে লিপস্টিক আর কপালে একটি লাল রঙের বড় টিপ। হালকা লিপগ্লস বুলিয়ে নিতে পারেন ঠোঁটে। লিপলাইনার একটু গাঢ় রঙের বেছে নিন। বসন্ত উত্সবের সাজ এখন আর একই ঢংয়ে সীমাবদ্ধ নেই। যেমন ফুল শুধু খোঁপা নয়, চুলের নানা রকম স্টাইলের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ফুল ও ফুলের মালা ব্যবহার করা হচ্ছে হাতে, কপালে, পায়ে। ফাল্গুনকে বরণ করতে একটু অন্য রকম সাজে মেয়েরা তৈরি হতে চাইছেন নিজস্ব স্টাইলে।

ফুলে ফুলে ফুলেল সাজ

বসন্তে প্রকৃতি সেজেছে ফুলের সাজে। শীত যেতে না যেতেই প্রকৃতি মেতেছে পাতা ঝরার খেলায়। গাছে গাছে ফুলের আনাগোনা। দুয়ারে কড়া নাড়ছে দখিনা বাতাস। এ জগতে ফুলই একমাত্র উপাদান, যা দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোকে বরণ করা যায়। বসন্তের সময়ে মানুষের মন অনেক উত্ফুল্ল থাকে। এ সময় প্রকৃতি আমাদের যে ফুলগুলো দেয়, তা আমরা বছরের অন্য সময়ে পাই না। চারদিক হলুদ রঙের গাঁদা ফুলে ভরে যাচ্ছে। বসন্তে আমরা যেসব ফুলের ছোঁয়া পাই, তা আমরা জীবনের অনেক জায়গায় অনেকভাবে ব্যবহার করতে পারি। ফুল মেয়েদের কাছে এখন অনেক পছন্দের একটা অলঙ্কার। নানা ধরনের ফুল তারা খোঁপায় ব্যবহার করতে পারছে। সে তার জুয়েলারি হিসেবে হাতে, গলায়, কানে, কোমরে ফুল দিয়ে সাজতে পারে এই বসন্তে। সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে ফুল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার কোনো সাধারণ জায়গায় ফুলের ভারী গয়না ব্যবহার করলে সেটা খুবই বেমানান লাগে। এসব জায়গায় দু’একটা ফুল মাথায় লাগাতে পারেন। নতুবা অনেক বেশি ফুল লাগলে দেখতে অনেক খারাপ লাগবে। বসন্তে ফুল দিয়ে সাজতে হলে শুধু ফুলই ব্যবহার করব তা না। কোন জায়গায় যাচ্ছি, এ সময়ে ফুল মাথায় কি-না, সেদিকেও খেয়াল করতে হবে। ফুলের ব্যবহারও আমাদের ভালো করে জানতে হবে। এ সময়ে বিয়ের সাজে বেলিফুল বেশি ব্যবহার করা হতো। মাথা ভরে এখন অনেকেই গাজরা ব্যবহার করে। এটা দেখতে আরও বেশি সুন্দর। এখন অবশ্য মেয়েদের বেশি পছন্দ বড় সাইজের ফুল, যেমন—টাইগার লিলি, এটি অনেকেই বউ সাজাতে ব্যবহার করে। তখন পুরো লুকটাই বদলে যায়, কিন্তু এই ফুলগুলো সব সময় পাওয়া যায় না। আবার শীতের সময় আমরা শিউলি ফুল ব্যবহার করতে পারি। কারণ তখন শিউলি ফুল হাতের নাগালে পাওয়া যায়। বসন্তে আমরা বিশেষ করে হলুদ রঙের অনেক ফুল পাই। যে ফুলগুলো মেয়েরা অনেক সুন্দরভাবে ব্যবহার করে। এই সুযোগটা তারা কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না। সব ধরনের ফুলের সাজে তারা বসন্তকে বরণ করে নেয়।

rupcare_spring fashion1ফুলের ব্যবহার ব্যাপক, সে তুলনায় আমরা জানি অনেক কম। আবার অনেক ক্ষেত্রে আমরা আর্টিফিসিয়াল ফুলও ব্যবহার করি। কিন্তু এসব ফুল থেকে তাজা ফুলের সৌন্দর্য অনেক বেশি। আর্টিফিসিয়াল তো আর্টিফিসিয়ালই। প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া তাজা ফুলে অনেক সুন্দর গন্ধ থাকে, যেটা কি-না এয়ার ফ্রেশনারের কাজ করছে আর লুকটাকে অনেক সফট করে দেয়। তাজা ফুল সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে, যা কৃত্রিম ফুল দ্বারা সম্ভব নয়। বসন্তে ফুল দিয়ে সাজা এখন আমাদের একটা ঐতিহ্যের অংশ। ফুলের ভেতরে যে অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য আছে, তা মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলে। মানুষের মন পবিত্র করতে ফুল অনেক বড় ভূমিকা রাখে। এখন কিছু কিছু ফুল থাইল্যান্ড থেকে আনা হচ্ছে। এর মধ্যে প্যারাডাইস ফুল অনেক পছন্দের। আমাদের সুবিধার জন্য এখন বিভিন্ন ধরনের ফুল আমদানি করা হচ্ছে। আমাদের নাগরিক জীবনে বসন্ত একটু প্রশান্তির ছোঁয়া বয়ে আনে। যেখানে ম্লান হলুদ আলো মিলিয়ে যেতে দেখে নরম কচি পাতায় গড়িয়ে গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, সেখানে দখিনা হাওয়া বেলিফুলের গন্ধে বিহ্বল। যেখানে বসন্ত, ফাল্গুন আর একুশের এক একটা চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া। আমাদের নগরজীবনে বসন্তের হাতছানির জন্য অপেক্ষা। আমরা মনের অজান্তেই গেয়ে উঠি ‘এসো হে আমার বসন্ত।’ ফুলের সাজে প্রকৃতির মতো আমরাও সাজি। এ সময়ে ফুল দিয়ে বানানো নানা ডিজাইনের গহনা ললনাদের কেশভর্তি চুলে শোভা পায়, যা বসন্তকে পরিপূর্ণ করে।

চুল রাখতে চান যেমন

উত্সবে চুল খোলা রাখতে পছন্দ করেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে এক পাশে ক্লিপ আটকে তার ওপর ফুল গুঁজে দিতে পারেন। অথবা কানের পাশ দিয়ে হালকাভাবে গুঁজে দিতে পারেন কয়েকটি ফুল। ফুল বড় হলে একটি, ছোট হলে তিন-চারটি। চাইলে সামনের দিকের কিছুটা চুল ব্যাককোম্ব করে নিতে পারেন। পেছনে চুল আটকানোর জায়গাটিতে আটকে দিতে পারেন পছন্দের ফুলটি। দুই পাশ থেকে চুল পেঁচিয়ে এনেও (টুইস্ট) পুরো চুল খোলা রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দুল ও মেকআপের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক জায়গায় ফুলটিকে আটকে নিন। হালকা অথবা আঁটসাঁট করে খোঁপাও করে নিতে পারেন। খোঁপার চারপাশ দিয়ে মালা না পেঁচিয়ে একটু অন্যভাবেও পরতে পারেন। খোঁপার চারপাশ দিয়ে পরপর ছোট ফুল গেঁথে নিন অথবা একটি বড় ফুল খোঁপা ও কানের মধ্যে আটকে নিন। বেণিতেও অন্যভাবে ফুল আটকে তৈরি করতে পারেন ভিন্ন লুক। সামনে দুই পাশ থেকে চুল টুইস্ট করে টেনে পেছনে নিয়ে আটকে নিন ক্লিপ দিয়ে। এবার সাধারণভাবে বেণি করে মাঝেমধ্যে ফুল আটকে নিতে পারেন। সামনের টুইস্ট করা অংশেও ছোট ফুল আটকে নিতে পারেন।

বাইরে বেরুচ্ছেন? প্রয়োজনীয় উপকরণ বয়ে বেড়ানোর জন্য নিশ্চয়ই তখন একটি ব্যাগের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ব্যাগের ফ্যাশনের দিকেও সচেতন থাকুক। আপনার সারাদিন হেঁটে বেড়াবার সঙ্গী জুতো জোড়ার দিকেও সমান নজর দিন। তাহলে পহেলা ফাল্গুনে সবার নজর থাকবে আপনার ওপর। সবকিছু গুছিয়ে এবার শেষবারের মতো আয়নায় দেখে বের হয়ে যেতে পারেন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আনন্দ আড্ডায়।

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page