ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


বাফেট যেভাবে বিশ্বের তৃতীয় ধনী হলেন

বিশ শতকের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে যাকে বিবেচনা করা হয়, তিনি ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট। বিশ্বের তৃতীয় ধনী এই মানুষটি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী। অবশ্য বিপুল ধনসম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও বাফেট অত্যন্ত মিতব্যয়ী। বরং জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। হবে নাই বা কেন? মানুষের উপকারে অর্থ ব্যয় তো করছেনই, এছাড়া জীবনের উপার্জিত অর্থের ৯৯ ভাগই যে জনকল্যাণে দান করবেন বলে কথা দিয়েছেন।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী হলেও তা অর্জন খুব সহজে হয়নি তার। পরিশ্রম, অধ্যবসায় তিলে তিলে গড়েছেন অর্থ-বিত্তের পাহাড়। সেখানেও রেখেছেন কঠোর শৃঙ্খলার স্বাক্ষর। জেনে নিন কিভাবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তি হলেন ওয়ারেন বাফেট।

অর্থের খোঁজে ছুটলেও তা নিয়মের ভেতরেই রেখেছিলেন বাফেট। যার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন আজও। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকেই বাফেট নিয়মিত আয়কর দিয়ে আসছেন। তিনি যেখানেই আয়ের সম্ভাবনা দেখেছেন, সেখানেই পুঁজি খাটিয়েছেন। জীবনের প্রারম্ভে তিনি বাড়ি বাড়ি ফেরি করে বেড়াতেন। কী বিক্রি করতেন জানেন? সোডা আর আঠা!

খাবার দাবারের ক্ষেত্রেও বাহুল্যতা পছন্দ করেন না বাফেট। সাধারণত ধনী ব্যক্তিরা খাদ্যের পেছনে যে ব্যয় করেন, তার চেয়েও কম মূল্যের খাবার খান তিনি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সকালের নাস্তায় ম্যাকডোনাল্ডের সর্বনিম্ন ৩ ডলারের খাবার থাকলেও তা বাহুল্য মনে করেন তিনি। ফলে ধনী মানুষটি এর চাইতেও কম মূল্যের অর্থাৎ ২ ডলারের খাবার খেয়ে থাকেন।

অর্থবিত্তের মালিক হলেও জ্ঞান অর্জন থেকে সরে আসেননি তিনি। কর্মব্যস্ততার মাঝেও যেটুকু অবসর তার জোটে, তার পুরোটাই বই পড়ে কাটিয়ে দেন তিনি। অবশ্য তার পছন্দের বই গল্প উপন্যাস নয়.. তিনি পছন্দ করেন বাজার ও অর্থনীতি বিষয়ক বই।

সমাজে মজুদদারি খারাপ চোখে দেখা হলেও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কিন্তু তা সম্পূর্ণ উল্টো। ওয়ারেন বাফেটের অর্থ বিত্ত্বের পেছনেও বিষয়টির অবদান অনেক। বাজার সম্পর্কে তার রয়েছে পর্যাপ্ত জ্ঞান। তিনি জানেন, কখন কোন পণ্যটি মজুদ করে রাখলে ভবিষ্যতে লাভ হবে।

অনেক লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সফল করে গড়ে তুলেছেন বাফেট। সেসব লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকের যখন ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা, তখন এগিয়ে এসেছেন তিনি। পানির দামে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলো কিনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন লাভজনক হিসেবে। ফলে তার অর্থের পরিমাণও বেড়েছে দ্রুত।

যে ব্যবসাতেই ওয়ারেন বাফেট হাত দিয়েছেন, তার সুদূর প্রসারী চিন্তা নিয়েই এগিয়েছেন। তিনি বুঝতে পারেন, কোন ব্যবসা এখন লোকসান দিলেও ভবিষ্যতে লাভের মুখ দেখাবে। এছাড়া, অস্বস্তি কিংবা দ্বিমুখী মনোভাব নিয়ে কোনো কাজে হাত দেন না ওয়ারেন বাফেট।

অবশ্য ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় তিনি কঠোরভাবে মেনে চলেন। বাফেট নিজেই বলেন, ‘প্রথমত অনেক বড় ঝুঁকি হচ্ছে জেনেও বেশি লাভের আশায় বিনিয়োগ করা বোকামির লক্ষণ। এতে অর্থ হারানোর ভয় রয়েছে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, নীরব ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করা। অর্থাৎ মজুদযোগ্য পণ্যে অর্থ ঢালা। ভবিষ্যতে যা আপনাকে কোটিপতি করে তুলবে।’

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page