ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর

“জানো বাংলাদেশ” ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের এমন একটি প্রয়াস যার মাধ্যমে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের কোর্স ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্টের আওতায় বাংলাদেশকে জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।মূলত,ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রাহমা আক্তারের ঐকান্তিক ইচ্ছার প্রতিফলন এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের এমন কিছু স্থান পরিদর্শন করেন যেটি বাংলাদেশের টুরিস্ট আকর্ষণ এবং আর্থ-সামাজিক দুই ক্ষেত্রেই অবদান রাখছে।

আর ধারাবাহিক এই কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা এবার গিয়েছিলেন সিলেটের প্রকৃতি কন্যা জাফলং এবং রুপকন্যা লালাখালে।

গত ২রা মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৭ জন শিক্ষার্থী “জানো বাংলাদেশ” এরপ্রতিষ্ঠাতা ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোর্সের শিক্ষিকা রাহমা আক্তারের পরিচালনায় রওনা হন সিলেটের উদ্দেশ্যে।

শুক্রবার সকাল ৮টায় সিলেট পৌঁছে শিক্ষার্থীরা চলে যান সিলেট শহরের উপকন্ঠ খাদিমনগরে অবস্থিত “ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে”।

সেখানে সকালের নাস্তা সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রথম ভ্রমন স্থান জাফলং এর জন্য যাত্রা শুরু করে।

জাফলং, বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত, একটি এলাকা। জাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত।

প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপলীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরামধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেলপানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে।

জাফলং পর্ব শেষ করে আবার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ফিরে এসে দুপুরের খাবার শেষ করে শিক্ষার্থীরা যায় প্রকৃতির আরেক রুপকন্যা লালাখালে।সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে জৈন্তাপুর উপজেলায় স্বচ্ছ নীল পানির নদী ‘লালাখাল’। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি। প্রকৃতিকে একান্তে অনুভব করার জন্য স্থানটি বেশ উপযোগী। পাহাড়ে ঘন সবুজ বন, নদী, চা-বাগান ও নানা জাতের বৃক্ষের সমাহার লালাখালজুড়ে তৈরি করেছে এক অন্য আবেশ।

লালাখাল থেকে সিলেট ফিরে এসে শিক্ষার্থীদের শেষ হয় প্রথমদিনের সফর।

দ্বিতীয় এবং শেষ দিন সকালের নাস্তা শেষে বেলা ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা যাত্রা শুরে করেন সিলেটের সাফকো স্পিনিং মিলের উদ্দেশ্যে।বেলা ১২টায় শিক্ষার্থীরা এখানে এসে পৌছায়।

হবিগঞ্জের নয়াপাড়ার সিয়ামনগরে সাফকো স্পিনিং মিলের অবস্থান। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপ সায়হাম গ্রুপ এই মিলটির প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করে এখন ৩৫০০০ স্পিনডিলস নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিণত হয়েছে দেশের শীর্ষ বস্ত্রখাতের কোম্পানি সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠান থেকে কটন ইয়ারন,পলিস্টার ইয়ারন,জুট ইয়ারন তৈরি হচ্ছে। বিশাল এই প্রতিষ্ঠানের কর্মযজ্ঞ শিক্ষার্থীদের ব্যবসায় জগৎ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে সাহায্য করে।

সায়হাম মিল পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীরা চলে যান হবিগঞ্জের মাধবপুরে অবস্থিত হোটেল হাইওয়ে ইনে।সেখানে দুপুরের খাবার শেষ করে ঢাকার জন্য রওনা দেন ৪০ জনের এই শিক্ষার্থী দল।আর ঢাকায় রাতে পৌঁছে সমাপ্তি ঘটে দুইদিনের এই সফরের।

“জানো বাংলাদেশ”এর এবারের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শিক্ষার্থী নাজিব মাহমুদ চৌধুরী বলেন-“এই শিক্ষাসফরের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের টুরিস্ট ডেস্টিনেশন সম্পর্কে একদিকে যেমন জানতে পারছি,ঠিক তেমনি এসব স্থানকে মানুষের কাছে কিভাবে আরো পরিচিত করে তোলা যায় তা নিয়ে ধারণা পেয়েছি।তাছাড়া সাফকো স্পিনিং মিল এর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শুধু পরিদর্শনই নয় একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কিভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা থেকে ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় কাজ করে তার বাস্তব প্রমাণ পেয়েছি”।

 

 

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page