ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


শুধু মেকআপ-ব্রেকআপ নয়,প্রাইভেটের শিক্ষার্থীদের হাজারো কাজ আছে

মাহমুদ মুসাঃ গতকাল মাহবুবা সুমি নামে এক মহীয়সী!!! নারীর “পাবলিকের ছাত্রীদের ঘনঘন মেকআপ লাগে না, ব্রেকআপও হয়না!” লেখাটি আমার দৃষ্টিতে এসেছে।ভেবেছিলাম এই প্রসঙ্গে কথা না বাড়ানোই শ্রেয়।একজন সুমিকে এতো গুরুত্ব না দিলেও আমাদের কিছু ক্ষতি হবেনা।কিন্তু তিনি যে ভুল করে বেশ কিছু কথা বলে দিলেন তা শোধরানোর প্রচেষ্টায় এই লেখা।তবে,আমার সন্দেহ আছে তিনি এই লেখা আদৌ দেখবেন কিনা,দেখলে শোধরাবেন কিনা।

তিনি বলেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্বপ্নের ডানা মেলে ধরার জায়গা। মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গা। অবিবেচক প্রসূত লেখা যে তিনি কোন অবস্থায় লিখেছেন তা একমাত্র খোদা মালুমই জানেন।আপনি হয়তো জানেন না,এই দেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েও মুক্ত বুদ্ধির চর্চা হয়।শুধু চর্চা না রীতিমত ঘটা করেই বিভিন্ন উৎসব-পার্বণ এইসকল প্রতিষ্ঠানে উদযাপন করা হয়।

আপনার লেখায় আরেকটি জিনিষ চরমমাত্রায় বিরক্তের কারণ এনে দিয়েছে তা হলো একজন নারী হয়ে আরেকদল নারীকে লক্ষ্য করে আপনার তির্যক লেখনী।আপনি জানেন না,এই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো ছাত্রী আছে যারা পড়েন তাঁদের পরিবারের কষ্টার্জিত টাকায়।তাঁরাও মফস্বল শহর থেকে এসে যান্ত্রিক শহরে কষ্ট করেই নিজের জীবনের আহ্লাদ-সুখ ত্যাগ করে পড়াশোনা চালিয়ে যান নিজের ভবিষ্যৎ-পরিবারের ভবিষ্যৎকে একটু রঙ্গিন করে তোলবার জন্য।

মাহবুবা সুমি আপনি লিখেছেন আপনারা কালচারাল,আপনারাই স্বাবলম্বী!! তাহলে কি আপনি বলতে চান বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্যদেশ থেকে এসে এইদেশে বসতি স্থাপন করেছে?আপনি লিখেছেন ঘনঘন মেকআপের কথা,আর আমি বলি এইদেশের বেশীরভাগ মানুষ মনে করে বাহ্যিক রুপ থেকে মনের রূপই আসল।আমার আফসোস হচ্ছে আপনার জন্য,আমি নিশ্চিত আপনি বিরাট মানসিক কষ্টে আছেন,না হয় নারী হয়ে নারীদের নিয়েই আপনার দারুন মন্তব্য আমাদের হতাশ করেছে।গণরুমে থাকতে থাকতে নিম্ন মানসিকতা আপনাকে আচ্ছাদিত করেছে।

আপনি লিখেছেন ছেলেদের হারিয়ে দিয়ে কিভাবে এগিয়ে যেতে হয় তা আপনারাই জানেন,কিন্তু আপনার অবগতির জন্য বলছি এই প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্ব থেকেই আমাদের নারীরা এগিয়ে আর এর বাইরে নয় এদেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

আর প্রখর রৌদ্রে কিংবা বৃষ্টির আড়ালে জীবনের আসল মানেটা খোঁজার চেষ্টা করে শুধু আপনার মতো একজন না এদেশের হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে জীবনের মানে খোঁজে এবং মানের উত্তরও জানে।আর শুধু বয়ফ্রেন্ড কেন্দ্রিক ভাবনা না রেখে আরো অনেককিছু ত্যাগ করেই এদেশের সকল নারী পরিবারের সুখের জন্য এগিয়ে চলেন।

মোদ্দাকথা,আমি বিশ্বাস করি দেশের প্রাইভেট-পাবলিক বৈষম্য এনে দিয়ে নিজেদের দেওয়ালিপনার পরিচয় দিচ্ছি আমরা।অবশ্যই দেশের সব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণযোগ্য অবস্থানে যেতে পারেনি কিন্তু স্বল্প সময়ে দেশের অনেক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনও কিন্তু আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়। মাহবুবা সুমী আশা করি আপনি স্বশিক্ষিত,একটু কষ্ট করে এই অর্জনগুলো ঘেঁটে নিন।

দৃঢ়ভাবে বলতে চাই,এই দেশ আমাদের সকলের।এই বাংলাদেশ নামক সোনার দেশের আজকের বিশাল অর্জনের অনেকটাই হাত ধরে এসেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে।ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলন সব আন্দোলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অবদান আমাদের রক্তে অনুপ্রেরণার ধুমকেতু জাগিয়ে তুলে। দেশের প্রথম সোশ্যাল ইন্টারেকশন রোবট যখন শাবির শিক্ষার্থীরা করে তা আমাদের আনন্দে উদ্বেলিত করে,জাবির শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং করে যখন পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান জানান দেয় আমরা গর্বে বুক ফুলিয়ে তুলি।আর বুয়েটকে আমরা ধরি মেধাবী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হিসেবে।আসুন সবাই উদার হতে শিখি,দেশের প্রথম ন্যানো- স্যাটেলাইট যখন বেসরকারী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় করে তখন আসুন তাঁদের উৎসাহ দেই, ইন্ডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় যখন সুপার কম্পিউটার আনে তাঁকে আমাদের দেশের সম্পদ হিসেবে ধরি, নর্থ- সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে যখন ধরা হয় ব্যবসায় শিক্ষার পাওয়ার হাউস তখন তা আমরা মেনে নেই।

সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রজ, পথ-প্রদর্শক।কিন্তু তাই বলে তাঁদের অনুসারীরা পিছিয়ে পড়বে বা বেসরকারী-সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভেদ থাকবে তা কেউই চাননা এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

আসুন,এই দেশ আমাদের।বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা দিয়ে, যেখানে প্রাইভেট-পাবলিক এক হয়ে কাজ করবে “এক বাংলাদেশ” এর লক্ষ্য নিয়ে।অহেতুক নোংরা বিভাজন সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করি।বিশাল জনসংখ্যার এই দেশে কিছু দুষ্কৃতিকারী থাকবে,তাঁদের পরিহার করায় উত্তম।

লেখকের ফেসবুক আইডি-(www.facebook.com/mahmoodmoosa.syed)

(লেখকের মতামত একান্ত নিজস্ব,আমরা এর দায়ভার বহন করিনা)

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page