ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া হতে পারে প্রথম পছন্দ

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে যেক’টি দেশ প্রিয়, অস্ট্রেলিয়া এর অন্যতম।  ক্যাঙ্গারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ার পড়াশোনার মান আকাশছোঁয়া।শিক্ষাব্যবস্থা ও মানের দিক দিয়ে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার স্থান। প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য সে দেশে পা রাখেন। আর তাঁদের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরাও নেহাত কম নয়। এর পেছনে সঙ্গত কারণও আছে অনেক। প্রথমত, অস্ট্রেলিয়ার নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই আকর্ষণ করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের। বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটির অবস্থান অস্ট্রেলিয়ায়। এ ছাড়া সারা অস্ট্রেলিয়ায় ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ এক হাজার ১০০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। যেখান থেকে উচ্চশিক্ষা নিতে পারবেন পড়ুয়ারা। কিন্তু পর্যাপ্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আবেদন পদ্ধতি সঠিকভাবে না জানার কারণে অনেক সময় ভিসা মেলে না। তাছাড়াও পর্যাপ্ত পরামর্শের অভাবে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে খবর পাওয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে দুস্কর।আর এজন্যই উচ্চশিক্ষায় অস্ট্রেলিয়াতে পড়ার দরকারী পরামর্শ পেতে স্টুডেন্টবিডি মুখোমুখী হয়েছিলো ক্যরিয়ার এক্সপার্ট হেমি হোসেইন এর সামনে।তিনি আমাদের পাঠকদের জন্য দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া বিষয়ক দরকারী কিছু পরামর্শ।চলুন তা পড়ে নেয়া যাক-

প্রশ্ন:প্রথমে যদি আপনি আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলতেন

উত্তর:আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।আমি মূলত বর্তমানে একজন ক্যরিয়ার পরামর্শক,কর্পোরেট ট্রেইনার হিসেবে আছি।আমি আমার ব্যাচেলর ডিগ্রি অস্ট্রেলিয়া থেকে শেষ করবার পর সেখানেই এএনজেড(ANZ Bank) এ যোগদান করি এর পর সেখানের শীর্ষ টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলেস্ট্রাতে কাজ করি।সেখানের কাজ থেকে আমি উপলব্ধি করতে পারি  আমাদের দেশের অনেকেই এইদেশে আসছেন কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়  কিংবা ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাচ্ছেন না।তাদের সহায়তা করতে আমি চালু করি “ক্যারিয়ার’স হাব” নামের একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে আমরা একজনকে অস্ট্রেলিয়া বিষয়ক ননস্টপ সলিউশনস দিয়ে থাকি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম সারিতে রাখে কেন?

উত্তর: উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে পছন্দের প্রথম তালিকায় থাকার কারণ অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা ও মান। বর্তমানে শিক্ষার মানের দিক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের চেয়ে অস্ট্রেলিয়া কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। বিশ্বের সেরা ১০০টির মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় আছে সাতটি।

আর আমি বলব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া উত্তর আমেরিকার দেশগুলো যেমন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার থেকে তুলনামূলক সহজ হয়। যেমন আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য জিম্যাট, জিআরই বা স্যাটে ভালো স্কোর লাগে, যা আমাদের দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটু কঠিন। অপরদিকে ভালো রেজাল্ট এবং আইইএলটিএসে ভালো স্কোর থাকলেই অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া যায়। আইইএলটিএস তুলনামূলক সহজ হওয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়াকেই বেশি পছন্দ করেন।

আর একটা ব্যাপার হলো আমাদের দেশ থেকে যারা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য যায় তাঁদের বেশির ভাগই পড়া শেষে সেখানে চাকরি নিয়ে স্থায়ীভাবে থেকে যেতে চান। অস্ট্রেলিয়ায় পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট (পিআর) পাওয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ। এটাকেও একটা বড় কারণ হিসেবে ধরা যেতে পারে।

 

প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা পদ্ধতি কেমন এবং এ সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা কী?

উত্তর: আস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা যে কতটা উন্নত ও বিশ্বমানের তা বোঝা যায়।অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা গবেষণাধর্মী। গবেষণার ওপরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশি জোর দিয়ে থাকে। আর এ গবেষণাগুলো শুধু জার্নাল বা নিবন্ধ বের করার উদ্দেশ্যেই করা হয় না। এগুলো অ্যাপ্লাইড বা ব্যবহারিক জীবনে কাজে লাগানোর চেষ্টাও করা হয়, যা একটা অনেক বড় বিষয়। আর গবেষণার জন্য সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকেও সাহায্য পেয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

প্রশ্ন: উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে কী কী পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হবে?

উত্তর: আমাদের দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা সাধারণত অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি নেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া যান। এ ছাড়া পিএইচডি করার জন্যেও অনেকে যান। যাঁরা উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া যেতে চান অবশ্যই দক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করলে ভালো। তাদের মাধ্যমে আবেদন করলে অ্যাপ্লিকেশন থেকে শুরু করে অফার লেটার পাওয়া পর্যন্ত সব কাজ তারাই করে দেবে। আর “ক্যারিয়ার’স ক্লাব” এর পক্ষ থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের এসকল সহায়তা করে থাকি।

প্রশ্ন:বাংলাদেশসহ বিশ্ব চাকরির বাজারে অস্ট্রেলীয় ডিগ্রির মান কেমন?

উত্তর:অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সব দেশেই জনপ্রিয়। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়লেই তো শুধু হবে না।এর জন্য প্রথম থেকেই একজন শিক্ষার্থীকে তার পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়ার পাশাপাশি নিজেকে দক্ষ করতে হয়।আর আমি নিজে অস্ট্রেলিয়া থাকি বলে আমরা “ক্যারিয়ার’স ক্লাব” একজন শিক্ষার্থী সেখানে যাবার পরেও তাকে গ্রুমিং করতে থাকি।

প্রশ্ন : উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগে কি সহয়তা করবে “ক্যারিয়ার’স ক্লাব”?

উত্তর : মজার একটা বিষয় হলো আমাদের দেশ থেকে যেসব শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে যায় তাদের অনেকেরই লক্ষ্য থাকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট (পিআর) নিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা। বলতে গেলে এই সংখ্যাটাই বেশি থাকে। তো পিআর পাওয়ার জন্য কমপক্ষে দুই বছর অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে হবে। তারপর পড়াশোনা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এগুলো থাকলে আইইএলটিএস দিয়ে যদি নির্ধারিত স্কোর তোলা যায়, তাহলে পিআরের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদনের পর সব কাগজপত্র যদি ঠিক থাকে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত স্কোর পেলেই আপনি পিআর পাবেন। আর পিআর পাওয়ার তিন বছর পর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। আর পিআর পেতে একজন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা সবরকম সহয়তা দেই কারণ আমাদের অস্ট্রেলিয়াতে পুরো একটি টিম শিক্ষার্থীদের এবং নতুন চাকরিজীবীদের জন্য কাজ করে।

প্রশ্ন : অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে আগ্রহী একজন শিক্ষার্থীর কী কী পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া উচিত?

উত্তর : যাঁরা আস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান, তাঁদের অবশ্যই আগে থেকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। যেহেতু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে গেলে আইইএলটিএসে ভালো স্কোর লাগে, তাই ভালো স্কোর নিয়ে আইইএলটিএস সম্পন্ন করতে হবে। এখানে মনে রাখা উচিত যে আইইএলটিএসের মেয়াদ কিন্তু দুই বছর থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের এই সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে  Undergraduate থেকে Doc. Degree Certificate থাকলে উচ্চ শিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে IELTS অবশ্যই লাগবে। Undergraduate এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম IELTS স্কোর ৬.০ প্রয়োজন এবং Post graduate এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম IELTS স্কোর ৬.৫ প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ায় IELTS ছাড়া Students এর উচ্চশিক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা নেই।  বিষয়ভেদে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা Sponsor দেখাতে হয়।  Under graduate এর ক্ষেত্রে ২৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা Sponsor দেখাতে হয় এবং Degree Program এর জন্য  ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা Sponsor দেখাতে হয়।এক্ষেত্রে সকল পরামর্শ আমরা দিয়ে থাকি।

 

প্রশ্ন :আপনার পরামর্শ পেতে একজন শিক্ষার্থী কোথায় যোগাযোগ করবে

উত্তর : বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে আমরা “ক্যারিয়ার’স ক্লাব” বনানীতে শিক্ষার্থীদের ওয়ান টু ওয়ান পরামর্শ দিয়ে থাকি তারা সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন।আমাদের অফিসের ঠিকানা  “ক্যারিয়ার’স ক্লাব বাংলাদেশ”,  টাওয়ার হেমলেটস,১৬ কামাল আতাতুর্ক বনানী।তাছাড়া আমাদের এই নাম্বারে (+880 1993 10 10 10) কল দিয়েও যেকেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।আর আমাদের ফেসবুক পেজ ঠিকানা (www.facebook.com/careersclub/?ref=br_rs)  অথবা আমার সাথে আমার ফেসবুক পেজ (https://www.facebook.com/hemihossain.official/?pnref=story) এর মাধ্যমে সরাসরি যোগযোগ করতে পারবে

প্রশ্ন : অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে  মূল্যবান মতামত দেওয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

উত্তর : আমার পক্ষ থেকেও আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া যেতে ইচ্ছুক সব শিক্ষার্থীর প্রতি থাকল শুভকামনা।

 

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page