ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


নাসার প্রতিযোগিতার ফাইনাল মাতাচ্ছে বাংলাদেশি তরুণরা

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের মৃত্যু হয় প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে। এছাড়াও শুধুমাত্র পর্যাপ্ত উদ্ধারকাজের অভাবে ভূমিকম্প ও দালান ধসের কারণে মৃত্যু হয় ১৪ হাজার মানুষের। এর সকল সমস্যার সহজ প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে বিশ্বকে মাত করছে বাংলাদেশের টিম ‘আত্ম-উন্মেষ’।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আয়োজিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ হ্যাকাথন প্রতিযোগিতা ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’ এর ফাইনাল রাউন্ডে বর্তমানে প্রতিযোগিতা করছে দলটি।

গত ২৯-৩০ এপ্রিলে আয়োজিত প্রতিযোগিতাটির জোনাল রাউন্ডে ৫০ টি টিমের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিমটি ঢাকা আঞ্চলিক পর্যায়ে লোকাল পিপলস’ চয়েস পুরষ্কার বিজয়ী হয়। এরপর দুই সপ্তাহব্যাপী সেমিফাইনাল রাউন্ডের ভোটিংয়ে শীর্ষ পাঁচে জায়গা ধরে রেখে মনোনীত হয় ফাইনালের জন্যে। সর্বশেষ গ্লোবাল লিডারশিপ তালিকা অনুসারে, প্রকল্পটি দ্বিতীয়স্থানে অবস্থান করছিল। ৫জুন পর্যন্ত অনলাইন ভোটাভুটি শেষে, বিজয়ী ঘোষণা করা হবে এই শীর্ষ ৫ দল থেকে।

“আত্ম-উন্মেষ” এর প্রকল্পের বিষয়ে টিম লিড মোঃ আসিফ ইমরুল বলেন, আপাতদৃষ্টিতে “আত্ম-উন্মেষ” এর বানানো প্রকল্পটি বিশ্বের প্রথম কম্বো এপ্লিকেশন, যেখানে একই সাথে মোবাইল গেইমিং ও ব্যক্তিনিরাপত্তার বিষয়াদির সমন্বয় করা আছে। আত্ম-উন্মেষ ছোট একটা গবেষণা চালিয়ে দেখেছে যে আমাদের স্মার্টফোনে যতোটা না কাজের এপস্‌ থাকে, তার থেকে বেশি থাকে গেমিং অ্যাপস্‌! তাই এই ছোট্ট দলটি এমন একটি গেমস ডেভলপ করার চেষ্টা করেছিলো যা দিয়ে খেলার পাশাপাশি কাজ দু’টোই হবে।

দলটির অপর সদস্য মারিয়া রফিক জানান, তারা একটি অ্যাপস্‌ বানিয়েছেন যা ব্যবহারকারীকে মহাকাশ সম্পর্কে খেলার ছলে নানা তথ্য জানাবে পাশাপাশি নানা বিপদে আপদে আপনার কাজে আসবে।

ধরুন আপনি ভূমিকম্পের ফলে কোন এক বিল্ডিংয়ে আটকা পড়েছেন, আপনি এই অ্যাপস্‌ ব্যবহার করে আপনার নিখুঁত অবস্থান জানাতে পারবেন। কোথাও আগুন দেখলেন, অ্যাপস ব্যবহার করে আপনি সতর্কবাণী পাঠাতে পারবেন পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড ও নাসা ডেটা সেন্টারের কাছে।

এছাড়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে, যুক্ত করা হয়েছে নিজস্ব রোবোটিক প্রোটোটাইপ – ‘রোবো-১৮০৪’, যা অ্যাপের ডিসেন্ট কন্ট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বনভূমিতে ঘুরে তাপমাত্রার পরিবর্তন নির্ধারণ করে সতর্ক করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। ক্ষেত্র বিশেষে আগুনে পানি ও কার্বনডাই অক্সাইড গ্যাস ছড়ানোর ব্যবস্থাও আছে এর সাথে।

দলের আরেক সদস্য অনিমেষ মিত্রের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের বহুমুখী প্রয়োগ সম্ভব। শুধু দাবানল নয়, ভূমিকম্প, সাইক্লোনসহ যাবতীয় দূর্যোগ ও বিশেষক্ষেত্রে অপরাধনির্মূলে সক্ষম আমাদের এই অ্যাপলিকেশন। “আত্ম-উন্মেষ” কে এখন আরো একধাপ এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সমর্থন। অনলাইন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেই প্রকল্পটি চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় মনোনীত হবে।

“আত্ম-উন্মেষ”কে প্রথমবার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে, প্রথমেই” https://2017.spaceappschallenge.org/auth/signup” লিংক এ গিয়ে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। সাইন আপ করা হয়ে গেলে ইমেইলের মেইল বক্সে ঢুকে “verify your account ” এ কনফার্ম করবেন।

একাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে, “https://2017.spaceappschallenge.org/vote/finalists” এ গিয়ে দেখতে পাবেন এই টিমকে। তখন ভোট বাটনটি চেপে রাখতে হবে যতক্ষন না এটি সবুজ হয়। সবুজ হলেই ভোট দেয়া হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে। পরের বার থেকেঃ শুধু লগইন করে “https://2017.spaceappschallenge.org/vote/finalists” এ গেলেই দেখতে পাবেন এই টিমকে। তখন ভোট বাটনটি চেপে রাখবেন যতক্ষন না এটি সবুজ হয়। তাহলেই ভোট দেয়া হয়ে যাবে। প্রতিদিন একটি দলকে একটি করে ভোট দেওয়া যাবে।

যেকোনো তথ্যের জন্য ইভেন্ট লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/events/260940634

বাংলাদেশের সমর্থনে, সমর্থকেরা ফেসবুক প্রোফাইলের ছবিতে সমর্থনব্যাচ (https://www.facebook.com/profilepicframes/?selected_overlay_id=1302124136502811) যুক্ত করতে পারেন।

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page