ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


আইনস্টাইনের মত চললেই কি আইনস্টাইন হওয়া যায়?

বিজ্ঞানের অগ্রগতির মূল কারিগর হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের হাজার বছরের পরিশ্রম, চিন্তা, গবেষণা, পরীক্ষণের ফলে আমরা পেয়েছি আধুনিক, আরামপ্রদ ও বাসযোগ্য এই পৃথিবী। তবে বিজ্ঞানীরাও রক্ত মাংসে গড়া সাধারণ মানুষ ছিলেন। তাঁদের মনেও ছিল বিভিন্ন ধরনের বিশ্বাস, ধারণা, কুসংস্কার ও অভ্যাস। যেগুলো ছিল বিচিত্র, অদ্ভুত, এমনকি হাস্যকর। এই কুসংস্কার ও অভ্যাস তাঁদের প্রতিদিনের বুদ্ধিমত্তাকেও কাজে লাগাতে সহযোগিতা করেছে।

বিজ্ঞানীদের কিছু কর্মকাণ্ড অদ্ভূত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পদার্থবিদ ও উদ্ভাবক নিকোলা টেসলা প্রতিরাতে তাঁর পায়ের আঙ্গুলের ব্যায়াম করতেন। তাঁর ধারণা ছিল এটি মস্তিষ্কের কোষগুলিকে সচল রাখতে সহায়তা করে। আবার বিখ্যাত গনিতবিদ পল এরডোস উত্তেজক এক ধরনের ওষুধ খেতে পছন্দ করতেন। নিজের বিশ্বাস থেকে বিজ্ঞানীরা এ ধরনের কাজ করলেও অনেক গবেষণায় এর সপক্ষে প্রমাণও মেলে।

অদ্ভূত কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে এগিয়ে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। তাঁর ঘুম, ডায়েট এমনকি পোশাক পরিচ্ছদেও ছিল ভিন্নতার প্রকাশ।

ঘুম আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য বিশেষ উপকারী। আলবার্ট আইনস্টাইন মনে হয় এটি বিশেষভাবে উপলদ্ধি করেছিলেন । তিনি প্রতিদিন ১০ ঘন্টা করে ঘুমাতেন। যা গড়ে বর্তমান মর্কিনীদের ঘুমের পরিমাণের চেয়ে ৬ দশমিক ৮ ঘন্টা বেশি। এই ঘুমই তাঁর মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে প্রধান কাজে লেগেছে বলে মনে করেন অনেকে।

ঘুম শরীরের ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলে তা যাচাই করতে জার্মানির লুবেক বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৪ সালে একটি পরীক্ষা করেছিল। সেই পরীক্ষাতে ছাত্রদেরকে একটি খেলা শেখার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষনের পর কিছু ছাত্রকে ঘুমের সুযোগ দেওয়া হয়। ৮ ঘন্টা পর দেখা যায় যে ছাত্রগুলো ঘুমিয়েছিল তাঁরা দ্রুত খেলাটি আয়ত্তে এনেছে। তবে এই পরীক্ষার ফলাফলের মানে এও নয় যে বেশি ঘুম শরীরের পক্ষে ভালো। তবে পরিমিত ঘুম মস্তিষ্কের জন্য ভালো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আলবার্ট আইনস্টাইন প্রিন্সটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করার সময়ে প্রতিদিন ১ দশমিক ৫ মাইল হেঁটে যেতেন এবং ফিরে আসতেন। শুধু শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখার জন্যই তিনি হাঁটতেন না। বিশ্বাস ছিল, এটি স্মরণশক্তি বাড়াতে, সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও সমস্যা দূর করায় সাহায্য করে।

আইনস্টাইন স্প্যাগেটি নামক ইটালীয় খাবার পছন্দ করতেন। এটি মিষ্টি জাতীয় খাবার। চিনি মস্তিষ্কের জন্য ভালো। কিন্তু অধিক চিনি জাতীয় বা মিষ্টি খাবার শরীরের পক্ষে কোনভাবেই ভালো নয়।

আইনস্টাইন পাইপের মাধ্যমে ধূমপান করতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল শান্ত ও নির্দিষ্ট বিচারের ক্ষেত্রে এটি সাহায্য করবে। সমসাময়িক অনেকেই আইনস্টাইনকে অনুসরন করে ধূমপান শুরু করেন। তবে আইনস্টাইনের মধ্যে কতোজন ধীশক্তির অধিকারী হতে পেরেছিলেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

আইনস্টাইনের অভ্যাসগুলো বিশ্লেষণ করলে কিছু পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যকর কিছু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এখন বিষয় হলো অভ্যাস মানুষকে তৈরি করে না। মানুষই অভ্যাস গড়ে তোলে। তাই আইনস্টাইনের মতো ঘুমানো, হাঁটাহাটি, খাওয়া-দাওয়া, ধূমপানের অভ্যাস করলেই আইনস্টাইনের মতো মেধাবী বিজ্ঞানী হওয়া যাবে না। বরং এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত কিছু ঝুঁকির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কাই বাড়বে। একজন মানুষ ভালো ও খারাপ অভ্যাসের মিশেল। তাই আধুনিক গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের জন্য এমন কাজও খাদ্যাভাসকেই অভ্যাস হিসেবে নেওয়া উচিৎ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page