ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


তরুণরা এগিয়ে যাচ্ছে, সাথে এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশকে!

অনেকেই নেমে পড়েছে, খেয়াল করেছেন? বয়স ২৮-৩৫ এর মাঝে, ভালো চাকরি করে। এরকম অনেকের মানিব্যাগে এখন দু’টো বিজনেস কার্ড থাকে! দুটোর মধ্যে একটা যেখানে জব করে, সেখানকার কার্ড। আরেকটা তার নিজের, যেখানে সে বিনিয়োগ করছে! একটা সময় সে প্রথমটা ফেলে দিবে এবং দ্বিতীয়টাতেই পরিচয় দিতে গর্ববোধ করবে।

বুয়েটের ছোট ভাই, ভালো বেতনে এবং দায়িত্বশীল পজিশনে চাকরি করে, পিওর ইঞ্জিনিয়ারিং। কিন্তু জানি, চাকরিটা বেশি দিন করবে না। একদিন বলেছিলো, “খাজা ভাই, ট্যুরিজম হচ্ছে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা এবং এই ব্যবসাটা করে দেখাতে চাই”। ভীষণ ব্যস্ত প্রকৌশলী, কিন্তু শুক্রবার আর শনিবার দেশটা চষে বেড়ায় বিভিন্ন টিম নিয়ে। দু’বছরেই এগিয়ে গেছে বহুদূর। আল্লাহ সুস্থ রাখলে, সে যে এটাকে বিশাল ব্যবসায় পরিণত করবে বয়সটা ৪০-এর ঘরে যাওয়ার আগেই, কোন সন্দেহ নেই!

সে কিন্তু একা না! এমন মেধাবী, কিন্তু স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশকে নিয়ে এবং দিনরাত পরিশ্রম করছে কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী। কে ডাক্তার, কে ইঞ্জিনিয়ার, কে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করছে এগুলো গৌণ হয়েছে ওদের টিম গঠনে। ওদের টিমের একটাই কোয়ালিটি- ওরা স্বপ্ন দেখতে জানে, স্বপ্নকে বাস্তবায়নের যোগ্যতা ওদের আছে। এরকম কয়েক হাজারই যথেষ্ট।

স্ট্রিট ফুডের ব্যবসাটা সবার চোখে পড়ছে এখন। একটু হাইজিন নিশ্চিত করে এটি এখন বিশাল থেকে বিশালতর হচ্ছে। আরো ১০ বছর এটি বাড়তেই থাকবে নিঃসন্দেহে। এই ব্যবসা বিভাগীয় শহরগুলোতে শুরু হয়ে এখন উপজেলা ছাড়িয়ে ইউনিয়নেও ছড়িয়ে পরেছ। হাজার কোটি টাকার ব্যবসা এই স্ট্রিট ফুডের ব্যবসা এবং এটা কর্মসংস্থানের এক বিশাল ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

দেশি ফুডের ব্যবসা অন্তত আগামী ১০ বছর দারুণ রাজত্ব করবে। দই, মিষ্টি, মধু, ঘি, নারকেলের নাড়ু, বিস্কিটসহ এসবের ব্যবসা কিন্তু হাজার কোটি টাকার! আইটি খাত, গার্মেন্টসের লিংকেজ ব্যবসা, চামড়া, পোশাক, অনলাইন শপিং, ডোরস্টেপ নানা সার্ভিস, মোটর সাইকেল তৈরি, গাড়ী ভাড়ায় দিয়ে বিপুল আয়। এসব ব্যবসা তো আমাদের চোখের সামনেই গড়ে উঠছে একটু-একটু করে!

গবাদি পশুর খামার কেমন ব্যবসা? এই খাতে বছরে ২ লাখ কোটি টাকার ব্যবসা আছে মিনিমাম! আরও বড় হবে। আমরা কি রেডি? নাক সিঁটকাচ্ছেন না তো! শাক-সবজির ব্যবসা? ফুলের ব্যবসা? ফলের ব্যবসা? লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা এগুলো!

ভারতের কর্পোরেট হাউজগুলোর একটা বড় চ্যালেঞ্জ কী এই মুহূর্তে? তাদের একটা বড় সমস্যা হল, তাদের সবচেয়ে হাই পারফর্মার তরুণ এমপ্লয়িদের ৩৫%-কে বেতন বহু বাড়িয়েও তাদের চাকরিতে ধরে রাখা যাচ্ছে না। কেন জানেন? এইসব হাইপারফর্মার অদম্য তরুণ, মাঝ বয়সীরা আর অন্যের চাকরি করতে চায় না। নিজেরাই গড়তে চায়, দেখিয়ে দিতে চায় এবং তারা তা করছে।

মাত্র ১৪৬৬ ডলার মাথাপিছু আয়ের এই দেশে ব্যবসার যে বিপুল প্রসার ঘটা শুরু হয়েছে। ভাবুন তো, আমাদের মাথাপিছু আয় যদি ৩০০০ ডলার আয় হয়, ব্যবসাটা কি দ্বিগুণ হয়ে যাবে না? না, দ্বিগুণ হবে না, ব্যবসা হবে বহুগুণ। এটাকে বলে ‘মোমেন্টাম’। আস্তে আস্তে বাংলাদেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির মোমেন্টামটা ‘বিজনেস/ইকোনোমিক মোমেন্টাম’ এ পরিণত হচ্ছে।

চোখটা খুলে ঠিকভাবে দেখতে পারলে খুব পরিষ্কার এক বিশাল সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। আর এই যাত্রায় চালকের আসনে বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম।

জয় হোক এই তরুণ ব্যবসামুখী প্রজন্মের। শুধু ক্রিকেটের বাঘ নয়, বাংলাদেশ অর্থনীতিতেই ইমার্জিং টাইগার। নিঃসন্দেহে এবং নিশ্চিতভাবে।

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page