ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


তাজমহলের অজানা কথা

পৃথিবীর সাত আশ্চর্যের একটি, অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর তাজমহল। এটি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তবে সম্প্রতি ভারত সরকার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছে, পুরনো নথিপত্র অনুযায়ী অসাধারণ এই স্থাপনাটি যে তাজমহল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মোঘল সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মমতাজ মহলের মৃত্যুর পর তাকে স্মরণ করে এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। আরবী শব্দ তাজমহল অর্থ ‘সব প্রাসাদের মুকুট’। পারস্য, তুরস্কের অটোম্যান সাম্রাজ্য ও ভারতীয় সংস্কৃতির মিশেলে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। বলা হয় প্রায় ২২ হাজার শ্রমিক, পেইন্টার, চিত্রশিল্পী মিলে তাজমহল নির্মাণ করেছেন। তো, এই রহস্যময় স্থাপনা নিয়ে চলমান বিতর্কে এর কিছু অজানা তথ্য জেনে নেই চলুন-

*তাজমহল নির্মাণের পর থেকে প্রচলিত কথা শোনা যায়, সম্রাট শাহজাহান যমুনা নদীর আরেক তীরে একটি কালো তাজমহলও নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। তবে তার ছেলে আওরঙ্গজেবের হস্তক্ষেপে ঐ সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

*তাজমহল নির্মাণ শেষ হওয়ার পর ১৬৫৮ সালে আওরঙ্গজেব শাহজাহানকে গৃহবন্দি করে। বন্দি থাকা অবস্থায় জানালা দিয়ে জীবনের বাকি ৮ বছর তাজমহলকে দূর থেকেই দেখার সুযোগ পান শাহজাহান।

*সম্রাটের স্ত্রীদের পাল্টে যাওয়া মনের আবেগ ধারণ করা হয়েছে তাজমহলে। এ কারণে বিভিন্ন সময় তাজের রং পাল্টায়। ভোরে গোলাপী আভা ছড়ায়, সন্ধ্যায় দুধের মতো সাদা হয়ে যায়। আর পূর্ণিমার রাতে সোনালী আভা ছড়ায় তাজমহল।

*তাজমহলের নির্মাণ শৈলীতে আরেকটি রহস্যময় দিক হলো যখন আপনি তার দিকে এগুবেন, মনে হবে সেটি আকারে ছোট হচ্ছে। আর যখন দূরে সরে আসবেন, মনে হবে বড় হচ্ছে। তাই গাইডরা বলেন, এতে তাজমহলকে নিজের মনে করার অনুভূতি জাগে।

*দুর্বোধ্য স্থাপত্যশৈলীর তাজমহল নির্মাণে ২২ বছর সময় লাগে। গুজব আছে তাজমহল নির্মাণের পর যাতে এর মতো আর কোনো সুন্দর স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে কারণে সব শ্রমিকের হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন সম্রাট। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

*তাজমহলের প্রধান স্থপতি ছিলেন ইরানের অধিবাসী ওস্তাদ আহমাদ লাহৌরি।

* তাজমহলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হলো মাঝখানের বড় গম্বুজ। এটি ‘ওনিয়ন ডোম’ নামেও পরিচিত। এর উচ্চতা ১১৫ ফুট। এর চারপাশে আছে আরো ৪ টি গম্বুজ।

*ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেন মূল স্থাপনার ক্ষতি না হয়, সে কারণে চারটি বড় মিনার বাইরের দিকে কাত করে তৈরি করা হয়েছে।

*তাজমহল তৈরির সব উপকরণ দূর-দূরান্ত থেকে নিয়ে আসার জন্য ১০০০ হাতিকে কাজে লাগানো হয়।

*তাজমহলের জন্য সাদা মার্বেল আনা হয় রাজস্থান থেকে। এছাড়া ২৮ টির মতো মূল্যবান পাথর আনা হয় চীন, তিব্বত, শ্রীলংকা, আফগানিস্তানসহ কয়েকটি দেশ থেকে।

*১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় তাজমহলের অনেক দামি পাথর বৃটিশ সেনারা নিয়ে যায়।

* তাজমহলের সবচেয়ে বড় গম্বুজটিতে একটি ছোট্ট গর্ত আছে। মমতাজের সমাধির ঠিক উপরে গম্বুজের সিলিংয়ে এই গর্ত দেখা যায়। বলা হয় যখন শ্রমিকদের হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন সম্রাট তখন এক ক্ষুব্ধ শ্রমিক প্রতিশোধ নিতে সম্রাটের স্বপ্নে ব্যাঘাত ঘটাতে এই ঘটনা ঘটায়। তাই তাজমহলও নিখুঁত নয়, বলতে হয়।

*দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমারু বিমানের হাত থেকে রক্ষা করতে তাজমহলের উপরে বিশাল এক বাঁশের খাঁচা দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ও নাইন ইলেভেনের পর বিমান হামলার হাত থেকে তাজমহল রক্ষায় সবুজ আচ্ছাদন ব্যবহার করা হয়।

*ঠিক কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তাজমহল নির্মাণে? ১৬৩২ থেকে ১৬৫৩ সাল পর্যন্ত নির্মাণ কাজে শাহজাহানের ব্যয় হয়েছিলো প্রায় ৩২ মিলিয়ন রূপী। বর্তমান হিসেবে প্রায় ১০৬ কোটি ২৮ লাখ ৩৪ হাজার মার্কিন ডলার।

* প্রতিদিন তাজমহল পরিদর্শনে করেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ।

*সেলফি তোলা এখন বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা। তবে অনেক আগেও যে এ ধরণের মানসিকতা ছিলো অনেক সেলিব্রেটির মাঝে তার প্রমাণ মেলে। যেমন এই ছবি। গায়ক জর্জ হ্যারিসন তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে এই সেলফি তোলেন প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে! তিনি ক্যামেরায় ফিশ আই লেন্স ব্যবহার করেছিলেন।

*তাজমহলের ভেতরে একটি মসজিদ আছে। সেখানে যেতে হলে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী শালীন পোশাক পরে যেতে হয়।

*ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী সমাধির উপর ডেকোরশেন করা অনুচিত। তাই মূল সমাধির নিচে একটি কক্ষে সম্রাট শাহজাহান ও তার স্ত্রী মমতাজের কবর রাখা হয়েছে।

*সম্রাটের অন্য স্ত্রী ও তার সহচরের মৃতদেহ তাজমহলের বাইরে সমাধিস্থলে রাখা হয়েছে।

*তাজমহলের ভিত্তির নিচে ভূ-গর্ভস্থ পানি কমে যাওয়ায় এর মার্বেলের গায়ে ফাটল দেখা দিচ্ছে।

*তাজমহলের সাদা মার্বেলের রং পরিবেশ দূষণের কারণে দিনে দিনে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। তাই তাজমহলের আশেপাশে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক গাড়ি চলার অনুমতি আছে। পরিবেশ দূষণ থেকে স্থাপনাকে বাঁচাতে ৪ হাজার বর্গমাইল ব্যাসের এলাকাজুড়ে অন্য কোনো যান চলাচল করতে পারে না।

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page