ঢাকা শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭


কুবিতে শিবির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে মারধর,নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদাবাজি!

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির করার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে মোবাইল ফোন জিম্মায় রেখে শাখা ছাত্রলীগের দুইজন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার মোবাইল ফেরত দিয়ে টাকা আদায় করার ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি বুধবার রাতে সাংবাদিকদের নজরে আসে।

জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে শিবির করার অভিযোগে মারধর করে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হাসান সাদী ও গোলাম দস্তগীর ফরহাদ এবং ছাত্রলীগ কর্মী হাসান বিদ্যুত ও রাফিউল আলম দীপ্তসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। ঐ দিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাকেও মারধর করা হয় বলে জানা যায়। শিবির করার অভিযোগে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ঐ শিক্ষার্থীর বন্ধুর কাছে রাখা মোবাইল ফোনটি ঘটনার দিন কেড়ে নেন গোলাম দস্তগীর ফরহাদ, সাইফুল হাসান সাদী। তারা দুইজনই শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। পরে বন্ধুর মাধ্যমে ঐ শিক্ষার্থীর কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত ঐ ছাত্রলীগ নেতারা। টাকা না দিলে তাকে ক্যাম্পাসে আসতে দেওয়া হবে না এমন হুমকি প্রদান করা হয়। ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দুইজন ব্যক্তির মাধ্যমে গত মঙ্গলবার ৪ হাজার টাকা গোলাম দস্তগীর ফরহাদকে দিলে মোবাইলটি ফেরত দেয় হয়। এ সময় সাইফুল হাসান সাদীও ফরহাদের সাথে ছিলেন বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কাজী নজরুল ইসলাম হলের একাধিক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের অনুসারী। মোবাইল আটকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি ভুক্তভূগী ঐ শিক্ষার্থী বুধবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন।

তবে চাঁদা আদায় করার বিষয়টি অস্বীকার করেন শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম দস্তগীর ফরহাদ এবং সাইফুল হাসান সাদী।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘এ রকম কিছুই আমার জানা নেই। এ রকম হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চাঁদা আদায়ের বিষয়টি আমি অবগত নয় যদি এটা করে থাকে তাহলে তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি মো: সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘যদি তারা চাঁদা আদায় করে থাকেন তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page