ঢাকা শনিবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭


আমরা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়েঃনর্থ সাউথ ভিসি

ঢাকা ট্রিবিউনের করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিংয়ে মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক তথ্য বিবেচনায় না নেওয়ার অভিযোগ করেছে তারা।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, “পিছিয়ে পড়ছি কি না সেটার চেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য উপস্থাপন ঠিকভাবে হয়েছে কি না। এই র‌্যাংকিংয়ে কিছু অসঙ্গতি আছে, সেগুলো তুলে ধরছি আমরা।”

এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ২০১৪ সালের পুরোনো তথ্য নেওয়া অভিযোগ করেন তিনি।

একটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন গত ১০ নভেম্বর বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং প্রকাশ করে, তাতে শীর্ষে আসে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ওই দুই সংবাদমাধ্যমের পক্ষে গবেষণাটি করে ওআরজি কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড; র‌্যাংকিংয়ে

দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থান হয় নর্থ সাউথ ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির।

নিজেরা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পেছনে নানা অসঙ্গতি ওই গবেষণায় রয়েছে বলে দাবি করেন নর্থ সাউথের অফিস অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক শরীফ নুরুল আহকাম।

বক্তব্যের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:১৫ আছে, যেটা আন্তর্জাতিকভাবে ১৮ পর্যন্ত স্বীকৃত। অনুপাত ১:১১ হওয়ায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ পয়েন্ট দেওয়া হলেও সেখানে আমাদের পয়েন্ট ৯ দশমিক ২২।

“অথচ একই ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ সক্ষমতা, শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের গুণগত মানের হিসাবে আমরা সর্বোচ্চ স্থানে। শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের কারণে আপনি আমাদের এত পিছিয়ে দেবেন?”

অধ্যাপক আহকাম বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ব্যয়ের তথ্যে ৫৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর ব্র্যাকের ব্যয় প্রায় চার কোটি টাকা।

“আমরা আমাদের নিজস্ব ব্যয়ের তথ্য দিয়েছিলাম ইউজিসিতে। এর বাইরে যেসব গবেষণা আছে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি তখন। অথচ এর সঙ্গে বাইরের অনুদানে অনেক গবেষণা আমাদের আছে।

“আর এতে ৫ পয়েন্টের মধ্যে ব্র্যাক পেল ৫ পয়েন্ট। আর আমাদের পয়েন্ট দশমিক ২৩ পয়েন্ট। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয়ের মধ্যে এত বড় পার্থক্য থাকার পরও তারা সেটা যাচাইয়ের চেষ্টা করেনি।”

র‌্যাংকিংয়ের নানা দিক ‘স্বাধীনভাবে’ যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি করতে প্রকাশক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উপাচার্য আতিকুল ইসলাম বলেন, লাইব্রেরির বইয়ের সংখ্যার হিসাব ধরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পয়েন্ট ১০ দাঁড়ালেও ই-বুকস ও ভার্চুয়াল লাইব্রেরির নানা সুবিধা সম্বলিত নর্থ সাউথের লাইব্রেরি সুযোগ-সুবিধা এতে আসেনি।

পুরাতন তথ্যের উপর ভর করে এই গবেষণা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ধারণাগত জরিপে ব্র্যাক অনেক এগিয়ে আছে। কিন্তু তথ্যভিত্তিক যে স্কোর করা হয়েছে সেটা ২০১৪ সালের তথ্য। অভাবনীয় মাত্রায় উন্নতি এই সময়ে আমরা করলেও সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য সেখানে স্থান পায়নি।”

এক প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক আতিক বলেন, “দুর্নীতি নয়, কেবল এখানে ‘ইনোসেন্ট মিসটেইক’ বলে আমরা মনে করি। এই ভুল অনেক সময় বড় রকমের ক্ষতির কারণ হয়ে যায়।”

পিছিয়ে পড়ার পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উগ্রবাদে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি কাজ করেছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “সেটা হলে ধারণাগত জরিপে আমরা পিছিয়ে থাকতাম।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান বেলাল আহমদ বক্তব্য দেন।

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook449Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page