ঢাকা রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০১৮


আইইউবি’র ১৯তম সমাবর্তন

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-র ১৯তম সমাবর্তনে “সমাবর্তন বক্তা” হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, এমপি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সারাজীবনের অর্জিত জ্ঞান ও শিক্ষাকে মানবতার কল্যানে নিয়োজিত করা প্রয়োজন। আমাদের জীবন একটাই, আর তাই জীবনকে অর্থপূর্র্ণ করে গড়ে তোলা আবশ্যক। ব্যক্তিজীবনে লক্ষ্য নির্ধারন করে সফলতা অর্জন এবং সেই সফলতাকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যানেছড়িয়ে দেয়াটা অত্যন্ত জরুরী।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-র ১৯তম সমাবর্তন রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৮ আইইউবি’র নিজস্ব ক্যাম্পাস বসুন্ধরা, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। সফলভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী সম্পন্নকারী ১১১৯ জন শিক্ষার্থী এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য যে, এবছর আইইউবি বিশ্ব্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার এবং এদেশে মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদানের ২৫ বছর পূর্তি পালন করছে। যেকারনে এবারের ১৯ তম সমাবর্তন ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপুর্ণ।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আজ সারা পৃথিবীতে যে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সন্ত্রাসমুক্ত বিশ্বের কথা বলা হচ্ছে তা অর্জনে আমাদের সকলকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তিনি রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আইইউবি’র আচার্য মোঃ আব্দুল হামিদ-এর পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, এমপি এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং গ্রাজুয়েটদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আইইউবি-র মতো নেতৃস্থানীয় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এদেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যসমূহ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

তিনি বলেন, কাঙ্খিত সাফল্য অর্জনে এসব বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে আরো বেশী করে সরকারী সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি আরো বলেন, তোমরা ভাগ্যবান যে আইইউবি-র মতো একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসম্পন্ন শিক্ষা লাভ করতে পেরেছো ; এখন তোমাদের কর্তব্য হবে এই শিক্ষাকে দেশ, মানুষ ও সমাজের কল্যানে ব্যবহার করা।

সমাবর্তনের বিশেষ অতিথিবাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দেশের সার্বিক কল্যাণে অবদান রাখার ক্ষেত্রে আইইউবি কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তিনি এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এক্ষত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস প্রদান করেন।

আইইউবি-র প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট ইএসটিসিডিটি’র চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে উল্ল্যেখ করেন, দেশে ও বিদেশে আইইউবি’কে একটি বিশ্বমানের উচ্চ শিক্ষার স্থান হিসেবে তৈরি করার জন্য যা যা করা দরকার, তার সবই এই ট্রাস্ট অব্যাহতভাবে করে যাবে।

আইইউবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব রাশেদ চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,‘আইইউবি থেকে অর্জিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা গ্রাজুয়েটদের বাস্তব জীবনের সকল বাধা অতিক্রম করতে সহায়ক হবে’। আইইউবি’রগ্রাজুয়েটরা ন্যায়নীতি, একাগ্রতা এবং দৃঢ়তার সাথে তাঁদের নিজেদের এবং একইসাথেজনকল্যাণে নিরলস ভাবে কাজ করে যাবে বলে জনাব চৌধুরী গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ।

আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক এম ওমর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গ্রাজুয়েটরা সর্বদা ভিন্নভাবে চিন্তা করবে এবং সফলতার সাথে মানুষের জন্য কাজ করবে। তারা শুধু পেশাগত জীবনেই সফল হবে না বরং সমাজ, দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে ইতিবাচক অবদান রাখার জন্য সহনশীল ও উদার বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে আইইউবি-র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মিলান পাগন সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনকরেন । এই সমাবর্তনে ১১১৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ের ৮২৩ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ২৯৬ জন শিক্ষার্থী সনদ লাভ করেছে। সমাবর্তনের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক অর্জন করেন ইংরেজী বিভাগের স্নাতক এস এম মাহফুজুর রহমান। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সর্বোচ্চ মান সিজিপিএ ৪ অর্জনের জন্য একাডেমিক এক্সিলেন্স এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন সায়লা ইশরাত এ্যানী, ইয়াসিন আরাফাত ও অন্বয় মুতাসিম।

গ্রাজুয়েটস শিক্ষার্থীরা, তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ আইইউবি’র সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর পড়ুন

Share on Facebook9Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Print this page